ইউরিক অ্যাসিড কি এবং কেন হয়

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ ইউরিক অ্যাসিডের কারণে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। ইউরিক অ্যাসিড মূলত নিজে কোনো রোগ নয়। এটি অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং কার্বনের হেটারোসাইক্লিক যৌগিক পদার্থ, যা কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আজকে আমরা জানবো ইউরিক অ্যাসিড কি এবং কেন হয় ।

যদি কোনো কারণে এই অ্যাসিড তৈরির প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয় এবং শরীর থেকে বের হতে না পারে তখন রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারইউরিসেমিয়া। সেক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর উঠে দাঁড়াতে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বা ঘুম থেকে উঠে পা ফেলতে কষ্ট হওয়া—প্রভৃতি সমস্যা হয়। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গাউট, কিডনিতে পাথরসহ নানা জটিল রোগ দেখা দেয়। 

[toc]

যেসব কারণে বাড়ে ইউরিক অ্যাসিড

আমিষজাতীয় খাবার ও কোষের বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে দেহে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। এই মাত্রা বেড়ে গেলেই দেখা দেয় নানা জটিলতা। সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা ও বংশগত কারণে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া অতিরিক্ত আমিষজাতীয় খাবার খাওয়া, মদ্যপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও কিডনির জটিলতা থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে। 

ইউরিক অ্যাসিড এর উপসর্গ 

• পায়ের অস্থিসন্ধি, গোড়ালি ও হাঁটুতে তীব্র ব্যথা 

• পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির সন্ধি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া 

• সারা শরীরে ব্যথা 

• পিঠ বা কোমরে ব্যথা 

ইউরিক অ্যাসিড হলে করণীয় 

অতিরিক্ত আমিষ, তেল-চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। 

  • ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। 
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন। 
  • পিউরিনযুক্ত খাবার যেমন—লাল মাংস, কলিজা, ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। 
  • মসুর ডাল, মটরশুঁটি, পালং শাক প্রভৃতি এড়িয়ে চলুন। 
  • বেশি বেশি সাইট্রাসযুক্ত ফল যেমন—লেবু, কমলা, আঙুর খান। 
  • শরীর সক্রিয় রাখতে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চা করুন। অতিরিক্ত চিনি, চা-কফি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।
  • ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন। 

নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে ইউরিক অ্যাসিডজনিত জটিলতা সহজেই এড়ানো যায়। 

ব্যথা ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন।